পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন উদ্যোগ Shramshree Scheme 2025 – মাইগ্রেন্ট শ্রমিকদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্প, সুবিধা, আবেদন পদ্ধতি ও বিস্তারিত তথ্য







West Bengal Shramshree Scheme 2025 – সম্পূর্ণ তথ্য


পশ্চিমবঙ্গ Shramshree Scheme 2025 – মাইগ্রেন্ট শ্রমিকদের জন্য নতুন পুনর্বাসন প্রকল্প

প্রস্তাবনা

বর্তমানে দেশের নানা প্রান্তে কর্মরত বহু বাঙালি শ্রমিক নিজেদের মাতৃভাষা বাংলা বলার কারণে বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমস্যার গুরুত্ব বুঝে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যার নাম “শ্রমশ্রী (Shramshree) প্রকল্প”। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো— অন্য রাজ্য থেকে ফিরে আসা বাঙালি শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া।

West Bengal Shramshree Scheme কী?

Shramshree Scheme হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি পুনর্বাসন প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ২২ লক্ষ বাঙালি শ্রমিক বর্তমানে অন্য রাজ্যে কাজ করেন এবং অনেকেই শুধুমাত্র বাংলা বলার জন্য বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হন। সেই শ্রমিকরা যদি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসেন, তবে তাঁদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা, চাকরির সুযোগ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

  • অন্য রাজ্যে বৈষম্যের শিকার হওয়া বাঙালি শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা।
  • ফিরে আসা শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান।
  • রাজ্যের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
  • মাইগ্রেন্ট শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা।

যোগ্যতার শর্তাবলী

  • আবেদনকারী অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • অন্য রাজ্যে কাজ করার প্রমাণপত্র থাকতে হবে।
  • শুধুমাত্র সেই শ্রমিকরা এই স্কিমের সুবিধা পাবেন, যারা বৈষম্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন।
  • আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

  • আধার কার্ড / ভোটার আইডি (ঠিকানার প্রমাণ)
  • বাসস্থানের প্রমাণপত্র
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস (IFSC কোড সহ)
  • মাইগ্রেশন সম্পর্কিত ডিক্লারেশন ফর্ম
  • অন্য রাজ্যে কর্মরত থাকার প্রমাণ

West Bengal Shramshree Scheme-এর সুবিধা

  • ফিরে আসা প্রতিটি শ্রমিককে প্রতি মাসে ₹৫,০০০ ভাতা দেওয়া হবে।
  • এই ভাতা এক বছর পর্যন্ত বা যতদিন না তারা পশ্চিমবঙ্গে চাকরি পান ততদিন পর্যন্ত দেওয়া হবে।
  • রাজ্য সরকার তাঁদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
  • ফিরে আসা শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা হবে।
  • আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পাবেন।

অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

Shramshree Scheme-এর জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে খুব সহজেই। সরকার শিগগিরই একটি সরকারি পোর্টাল চালু করবে। আবেদন করার জন্য ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো –

  1. প্রথমে ভিজিট করুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
  2. হোমপেজ থেকে “Shramshree Scheme Apply Online” অপশন সিলেক্ট করুন।
  3. অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করুন।
  4. নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কর্মস্থল ইত্যাদি তথ্য সঠিকভাবে দিন।
  5. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করুন।
  6. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস জমা দিন।
  7. সবশেষে আবেদন ফর্ম সাবমিট করুন।
  8. একটি রসিদ/অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর সংরক্ষণ করুন।

স্টেপ বাই স্টেপ গাইড

যাতে শ্রমিকরা সহজে আবেদন করতে পারেন, তার জন্য সরকার জেলা ও ব্লক স্তরে সাহায্যকেন্দ্রও খুলবে। সেখান থেকেও ফর্ম পূরণ ও ডকুমেন্ট জমা দেওয়া যাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQs)

১. Shramshree Scheme কার জন্য?

অন্য রাজ্যে বৈষম্য বা হয়রানির শিকার হয়ে যারা পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন, সেই শ্রমিকদের জন্য।

২. কত টাকা ভাতা দেওয়া হবে?

প্রতি মাসে ₹৫,০০০ করে এক বছরের জন্য বা যতদিন না চাকরি হয়।

৩. আবেদন করতে কোন কোন ডকুমেন্ট লাগবে?

আধার কার্ড, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস, কর্মস্থলের প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

৪. কবে থেকে আবেদন শুরু হবে?

সরকারি পোর্টাল চালু হওয়ার পরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

৫. কিভাবে টাকা পাবো?

টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

উপসংহার

West Bengal Shramshree Scheme 2025 নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শুধু শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা নয়, তাঁদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। তাই যে সমস্ত শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই স্কিমটি হতে পারে একটি নতুন জীবনের আশা।

✍️ লিখেছেন: Sheikh Sakir Ali

© 2025 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top