কাপিলাস জঙ্গলের ভয়ানক আত্মার গল্প – সত্যি ঘটনা অবলম্বনে”

 

 

**ভূতুড়ে কাপিলাসের জঙ্গলের কাহিনী**

g

ভুবনেশ্বর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম দিকে গেলে কাপিলাস ফরেস্ট রেঞ্জের এলাকা শুরু হয়। এই এলাকায় একেবারে জঙ্গলের গভীরে পাহাড়ের চূড়ায় একটি প্রাচীন শিব মন্দির অবস্থিত। এই কারণে একে “ওড়িশার কৈলাস” বলেও ডাকা হয়।

২০২১ সালের ঘটনা। আমাদের এক দর্শক তাঁর বন্ধুর সাথে এই কাপিলাস শিব মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু তাঁরা স্বাভাবিক রাস্তা না নিয়ে বেছে নেন জঙ্গলের পথ। পথে তাঁদের ফরেস্ট গার্ডের সাথে কিছু কথা হলেও তাঁরা সাবধান হননি। তাঁরা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এগোতে থাকেন, না জেনে যে এই কাপিলাস জঙ্গলের একটি কালো ইতিহাস তাঁদের এমনভাবে তাড়া করতে যাচ্ছে, যার প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে তাঁদের এক বছরেরও বেশি সময় লাগবে।

এই গল্পটি পাঠিয়েছেন কানহা ভাই, । কানহা ভাই কেন্দ্রপাড়া জেলার বাসিন্দা। ২০১০ সালের কথা, তখন কানহা ক্লাস ফাইভে পড়তেন। তখন তাঁদের পরিবারে কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যার কারণে তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আন্টির (মৌসির) বাড়িতে থাকতে হয়।

 

তাঁর আন্টির বাড়ি কটক শহরের আনন্দপুর গ্রামে। কানহা সেখানকার স্কুলে ভর্তি হন এবং সেই সময় তাঁর বন্ধুত্ব হয় এক ছেলের সাথে, নাম ছিল সন্দীপ। তাঁদের বন্ধুত্ব এমন ছিল যে বহু বছর পরও সেই বন্ধনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এরপর একসময় পরিবারের অবস্থা স্বাভাবিক হলে কানহা নিজের বাড়ি ফিরে যান এবং কেন্দ্রপাড়া জেলার একটি সরকারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন।

 

তখনকার দিনে মোবাইল ফোন এত সহজলভ্য ছিল না, তাই সন্দীপের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তী ১০ বছর তাঁরা একে অপরের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। এরপর ১০ বছর পর কানহা যখন গ্র্যাজুয়েশন করছিলেন, তখন তাঁর মামার বিয়ে ঠিক হয়। সেই বিয়েতে আনন্দপুর গ্রাম থেকে তাঁর আন্টিও আসেন। তখন কানহা জানতে চান সন্দীপ কেমন আছে। আন্টি তাঁকে সন্দীপের নম্বর দেন, এবং তাঁদের মধ্যে আবার যোগাযোগ শুরু হয়।

 

২০২১ সালে তাঁদের প্রাইমারি স্কুলের বন্ধুরা মিলিত হওয়ার পরিকল্পনা করেন। ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ সালে তাঁরা একটি ফরেস্ট এরিয়া সংলগ্ন ছোট হোটেলে পার্টির আয়োজন করেন। ১০ বছর পর কানহা ও সন্দীপ আবার দেখা করেন। অনেক স্মৃতি, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি হয়। এরপর ঠিক হয়, তাঁরা পরদিন ২৯ ডিসেম্বর কাপিলাস শিব মন্দির যাবেন।

 

আনন্দপুর থেকে কাপিলাস যাওয়ার দুটি রাস্তা ছিল – একটি ৪০ কিমি দূর, আরেকটি ২৫ কিমি, যা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যায়। তাঁরা জঙ্গলের রাস্তা বেছে নেন। সকাল ১১টা নাগাদ সন্দীপের বাইকে রওনা দেন। জঙ্গলের ভিতর ঢুকে তাঁরা হাতির ডাক শুনতে পান। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল ৪টার মধ্যে ফিরে আসা।

 

কিন্তু ১০ কিমি যাওয়ার পর পাহাড়ি রাস্তা শুরু হয় এবং হঠাৎ বৃষ্টি নামে। তাঁরা একটা জায়গায় কিছু গৃহ নির্মাণ দেখেন, মনে হয় ট্রাইবালদের ঘর, সেখানে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করেন। ১টার দিকে আবার রওনা দেন এবং কিছুদূর যাওয়ার পর একজন বৃদ্ধকে রাস্তায় শুয়ে থাকতে দেখেন। তারা অনেক ডাকার পরও সাড়া মেলেনি। সন্দীপ কাছে গিয়ে বৃদ্ধের গায়ে হাত দিলে তিনি চোখ মেলে তাকান – চোখ পুরো লাল, সাদা অংশ নেই।এদের কিছুটা ভয় লাগে

বৃদ্ধ বললেন, “মন্দিরে যাওয়ার পর লম্বা রাস্তা ধরেই ফিরে যেও, এই রাস্তায় ফিরো না।” এবং তিনি জঙ্গলের দিকে নেমে যান। তাঁরা কথাটা উপেক্ষা করে মন্দিরে যান। ১৩৫০ ধাপ পেরিয়ে উপরে পৌঁছান, এক ঘণ্টা কাটান, ৫টার দিকে ফেরার পথে নামেন।

 

জঙ্গলের রাস্তায় ঢোকার সময় দুই ফরেস্ট গার্ড তাঁদের থামিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “এই সময় কোথায় যাচ্ছ?” সন্দীপ বলেন,  আমরা বাড়ি যাচ্ছি আমাদের বাড়ি সামনে সন্দীপ এখানে মিথ্যা বলে যে আমরা রাতে যাওয়া আসা করে ছি ২০-২৫ বার এসেছি।” ফরেস্ট গার্ড বলেন, “এই রাস্তায় ফিরো না, ইতিহাস জানো না তোমরা!”

কানহা যেতে না চাইলেও সন্দীপ জোর করেন। ঠিক তখনই তাঁরা জঙ্গলের মধ্যে অদ্ভুত একটা শব্দ শুনতে পান – কেউ যেন গাছ থেকে লাফ দিচ্ছে। এরপর একজন লোক তাদের দিকে আসে আর তার এক হাত কাটা সে ফরেস্ট লোকের কাছে থেকে দুধএর প্যাকেট নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে  চলে যায় –

 

তাঁরা ভয় পেলেও এগিয়ে যান। একটু পর একটি কালো দেশি মুরগি দেখতে পান। সন্দীপ বলে, “চল ওটা ধরে আজ ডিনারে খাওয়া যাবে।” সন্দীপ পিছনে ধাওয়া করেন। মুরগি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। তখন সন্দীপ ও তার পিছু ১০০ মিটার প্রযন্ত যায় অনুভব করেন যেন কিছু একটার স্পর্শ হল তাঁর কানে। সন্দীপ কানহা কে বলে তুই কি ডিল বা পাথর ছুড়ে মারে ছিস কানহা না বলে সন্দীপ বলে চল ভাই, ভালো লাগছে না।”

তারা তাদের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে

হঠাৎ এক জায়গায় একজন সাদা শাড়ি পরা মহিলা দাঁড়িয়ে ছিলেন, কোলে শিশু। মুখ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল না।  সন্দীপ গাড়ির ব্রেক মারে আর ভয়ে তার হাত পা কাপছে সে আর কিছু তেই গাড়ি চালা তে পারছেনি তো বলেই ফেলেন, “ভাই, তুই চালা বাইক, আমার সাহস হচ্ছে না।”

 

তাঁরা ভয় ভয়ে মহিলা পাশ কাটিয়ে যান। কানহা রিয়ারভিউ মিররে দেখেন মহিলা যেন হাওয়ায় ভেসে তাঁদের পেছন পেছন আসছে। বাইক কাঁদায় পড়ে যায়, আগের চাকা কাদাতে আটকে যায় আর তার গারিদিয়ে নামে আর গাড়ি চালু করে কিন্তু চালু হ্য়নি বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা নামেন, চারপাশে মহিলাকে খুঁজে কিন্তু দেখতে পান না। একটু স্বস্তি পেলেও, কানহা আর সন্দীপ পরে দেখেন মহিলা একটি গাছে বসে তাঁদের তাকিয়ে আছে, কোনো মুখ নেই।

 

সেই সময় কানহা দেখে মহিলা গাছ থেকে নামছে। একেবারে নীরব, অদ্ভুত মুখভঙ্গি।

তাঁরা ভয়ে প্রায় জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। বাইক স্টার্ট হচ্ছিল না।  তারা রোড এ বসে নিজেদের মুখ লুকোনোর চেষ্টা করছিল কিন্তু তারা দেখে মহিলাটি তাদের গাড়ির কাছে বসে আছে এরা এটা দেখে সেখান দিয়ে গাড়ী। শেষে ঠেলে নিয়ে বেরোনোর সিদ্ধান্ত নেন। ,

 

শেষে কোনওমতে বাইক চালিয়ে তাঁরা জঙ্গলের বাইরে পৌঁছান। এক গ্রামে চারটি ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায়  এক লোক তাঁদের  দেখে জল দেন। আর জিজ্ঞাস করে এতরাতে কোথায় যাবে ।তারা বলে আর লোকটি সব শুনে তিনি বলেন, “আজ রাত এখানেই কাটাও।” কিন্তু তাঁরা জোর করে বেরোতে চান। কারণ বাড়ির লোক চিন্তা করবে বলে সেই লোক বলে আমি তোমাদের জঙ্গলের বারে ছেড়ে দিয়ে আসি তারা বলে আপনাকে যাওয়ার দরকার নেই কিন্তু লোকটি বলে এখনো অনেক টা রাস্তা বাকি আছে বলে লোকটি তার গাড়ি বের করে  তাঁদের আগে  যায় তাঁরা পিছনে  এই বার জঙ্গলের বাইরে মূল রাস্তায় নামিয়ে দেন।

 

তখন তিনি প্রশ্ন করেন, “তোমরা জঙ্গলে কোনো পশুকে বিরক্ত করেছিলে?” তখন কানহা ও সন্দীপ বুঝতে পারেন, সেই মুরগিটা ধরতে চেয়েছিলেন, সেটাই ভুল ছিল।

লোকটি বলেন, “মন্দিরের পণ্ডিত যে সুরক্ষা কবচ পরিয়েছিলেন, সেই জন্যই বেঁচে গেছ। না হলে সে নারী আত্মা ছাড়ত না তোমাদের।”

তখন লোকটি বলে ১০-১৫ বছর আগে জঙ্গলের হাতি মেরে তার দাঁত বিক্রি করত শিকারীরা।

একদিন এক মহিলা তার শিশু কে নিয়ে জঙ্গল দিয়ে যাচ্ছিল আর শিকারীরা হাতি শিকার করবে বলে বন্দুক নিয়ে আসছিল মহিলাটি যখন দেখে তাদের বলে তোমরা এখন দিয়ে চলে যাও আমাদের প্রাণী মারবেননি শিকারী দের সর্দার বলে বন্দুক দিয়ে তোকে গুলি করে মেরে ফেলব মহিলা বলে আমি ফরেস্ট এর লোক ডাকবো তোমরা এখনি পালিয়ে যাও এর পর সে সর্দার বন্দুক নিয়ে গলি মারতে যায় তখন শিকারীর বন্ধু বারন করে আর বলে ভাই  মেরো না এদের এরা এই গ্রামের লোক কিন্ত শিকারীর একটা কুড়াল নিয়ে মারতে যায় আর তার বন্ধু বাঁচাতে হাত বাড়াই তার ডান হাত টা কেটে যায় শিকারীর সেই মুহুর্তে মহিলা কে গুলি মারে আর তার শিশু কেও মেরে ফেলে  ঘটনার কিছুদিন পর শিকারী রা সবাই বাড়ি চলে যায় আর সেই লোক  হাত কাটা লোক কে মহিলা স্বপ্ন দেখায় আর নিজের কাছে ডাকে কিছু দিন ধরে লোক টি স্বপ্ন দেখে নিজেকে না ধরে রাখতে পারে জঙ্গল আসে আর সে কোনো দিন বাড়ি যেতে পারেনি

সেই থেকে তাঁর আত্মা জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়।এবং তার আত্মা এক হাতে কাটা লোকের মাধ্যমে প্রতিদিন দুধ নিতে আসে। আর যারা জঙ্গলের প্রাণীদের বিরক্ত করে, তাদের সামনে সে আত্মা হাজির হয়।

এরপর কানহা একবছর ধরে স্বপ্ন দেখে

এরপর কানহা নিজে আবার একদিন যান, হাত জোড় করে ক্ষমা চান, একটি গাছে লাল সুতো বেঁধে আসেন। ধীরে ধীরে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

 

**এই ছিল এক ভয়ানক সত্য কাহিনি ওড়িশার কাপিলাস জঙ্গল থেকে।**

 

আপনার কাছে যদি এমন কোনো ঘটনা থাকে, আপনি

পাঠাতে পারেন নিচে দেওয়া ইমেইলে

sheikhsakirali8@gmail.com

ভালোবাসা, ক্ষমা আর আশ্রয়ের গল্প: ওমর ও জাহারার জীবনবদলের যাত্রা”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top